johardiary.com

Commemoration of 100 Years of the Olchiki Script

অল চিকি লিপির ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশ সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মুহূর্তের। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু অল চিকি লিপির স্রষ্টা পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু-এর সম্মানে একটি স্মারক মুদ্রা ও স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমগ্র আদিবাসী সমাজের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জাতীয় স্তরে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করা হলো।

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি, গবেষক, ভাষাবিদ এবং আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, অল চিকি লিপি কেবল একটি ভাষার লিখনপদ্ধতি নয়, এটি একটি জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রতীক।

১৯২৫ সালে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু সাঁওতালি ভাষার জন্য অল চিকি লিপির প্রবর্তন করেন। সেই সময় সাঁওতালি ভাষার নিজস্ব লিপি না থাকায় ভাষা সংরক্ষণ ও চর্চায় নানা বাধার সম্মুখীন হতে হতো। অল চিকি আবিষ্কারের মাধ্যমে সাঁওতালি ভাষা একটি সুসংহত ও বৈজ্ঞানিক লিখনরূপ পায়, যা পরবর্তীতে ভাষার বিকাশ ও স্বীকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০০৩ সালে সাঁওতালি ভাষা ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হওয়াও এই আন্দোলনের একটি বড় সাফল্য।

রাষ্ট্রপতির হাত দিয়ে স্মারক মুদ্রা ও ডাকটিকিট প্রকাশের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ দ্রৌপদী মুর্মু নিজেও আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর হাত ধরে এই সম্মান প্রদর্শন যেন প্রান্তিক সমাজের দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মপ্রতিষ্ঠার এক প্রতীকী স্বীকৃতি।

দেশজুড়ে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এই ঘোষণাকে ঘিরে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক মঞ্চে পালিত হচ্ছে বিশেষ কর্মসূচি। প্রবীণদের চোখে আবেগ, তরুণদের কণ্ঠে গর্ব—অল চিকি লিপির শতবর্ষ উদযাপন যেন আত্মপরিচয়ের নবজাগরণের উৎসব হয়ে উঠেছে।

সাঁওতালি ভাষাবিদদের মতে, এই ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের মাতৃভাষা চর্চায় উৎসাহিত করবে। অল চিকি লিপির শতবর্ষ তাই শুধু অতীতের স্মরণ নয়, বরং ভবিষ্যতের পথচলারও দৃঢ় অঙ্গীকার।

Facebook
WhatsApp
Telegram
Threads
Scroll to Top