johardiary.com

২ নভেম্বর আদিবাসী সমাবেশ এর প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে

আদিবাসী পরিচয় রক্ষার দাবিতে ২ নভেম্বর মানবাজারের পাথরকাটা ফুটবল ময়দানে আদিবাসী সমাবেশের পোস্টার
আদিবাসী পরিচয় ও অধিকার রক্ষার দাবিতে ২ নভেম্বর মানবাজারের পাথরকাটা ফুটবল ময়দানে বড়সড় সমাবেশের প্রস্তুতি, জোরকদমে চলছে প্রচার।

আদিবাসী সমাবেশে রেকর্ড জমায়েতের প্রস্তুতি, জোরকদমে চলছে প্রচার

 অ-আদিবাসীদের আদিবাসী (ST) তকমা দেওয়ার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে বড়সড় সমাবেশের ডাক দিয়েছে একাধিক আদিবাসী সংগঠন। আগামী ২ নভেম্বর আদিবাসী সমাবেশ ২ নভেম্বর | মানবাজারের পাথরকাটা ফুটবল ময়দান এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সমাবেশে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের জমায়েত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় প্রচার ও বৈঠক শুরু হয়েছে।

কেন এই সমাবেশের আয়োজন?

সম্প্রতি পুরুলিয়ার কড়াডির মাঠে আদিবাসী কুর্মি সমাজের একটি সামাজিক কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির পর এই বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এরপরই অ-আদিবাসীদের আদিবাসী তকমা দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে একাধিক আদিবাসী সংগঠন একজোট হয়ে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয়।

সমাবেশের প্রধান বিষয়গুলি

এই সমাবেশে মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হবে।

আদিবাসী পরিচয় রক্ষা: অ-আদিবাসীদের অনৈতিকভাবে আদিবাসী তকমা দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

জল, জঙ্গল ও জমির অধিকার: আদিবাসীদের প্রথাগত অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত করার দাবি।

ভুয়ো ST শংসাপত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ভুয়ো তফসিলি জনজাতি শংসাপত্র দেওয়ার চক্র চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।

পৃথক সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড: সাঁওতালি ভাষায় শিক্ষার প্রসারে পৃথক শিক্ষা বোর্ড গঠনের দাবি।

আদিবাসীদের স্বার্থরক্ষা: রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আদিবাসী অধিকার সুরক্ষিত করার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

প্রায় ২০টি আদিবাসী সংগঠন যোগ দিচ্ছে

এই সমাবেশের মূল উদ্যোক্তা ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল। তাদের পাশাপাশি আরও প্রায় ২০টি আদিবাসী সংগঠন এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়োজকদের মতে, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় মানবাজারের পাথরকাটা জোড়া মাঠকে সমাবেশের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে দুই জেলার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হবে বলে তাঁদের আশা।

কী বলছেন আদিবাসী সংগঠনের নেতারা ?

ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের নেতা রতনলাল হাঁসদার বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন নয়। তবে অ-আদিবাসীদের অনৈতিকভাবে আদিবাসী তকমা দেওয়ার চেষ্টা হলে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার—যে স্তরেই সেই উদ্যোগ নেওয়া হোক, তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতির পুরুলিয়ার সভাপতি সতনকুমার সরেন জানান, আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং ভুয়ো ST শংসাপত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পৃথক সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড গঠনের দাবিও সমাবেশে তোলা হবে।

কুড়মি সম্প্রদায়ের দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্য

কুড়মি সম্প্রদায়কে আদিবাসী (ST) তকমা দেওয়ার দাবিতে আদিবাসী কুর্মি সমাজ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। সংগঠনটি সংবিধান স্বীকৃত পথেই নিজেদের দাবির পক্ষে আন্দোলন করছে বলে জানিয়েছে।

আদিবাসী সংগঠনগুলির দাবি, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের পিছনে আদিবাসীদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই আদিবাসীদের স্বার্থরক্ষার দায়িত্বও রাজ্য সরকারের রয়েছে বলে তারা মনে করছে।

আদিবাসী কুর্মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতোর বক্তব্য, প্রতিটি জাতির নিজস্ব পরিচয় ও জাতিসত্তা রক্ষার অধিকার রয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিটি জাতির স্বকীয়তা বজায় থাকলে রাষ্ট্রের কাঠামো ও সংবিধান আরও শক্তিশালী হবে।

২ নভেম্বরের সমাবেশ ঘিরে বাড়ছে প্রস্তুতি

সমাবেশকে সফল করতে বিভিন্ন এলাকায় বৈঠক ও প্রচার চালাচ্ছে সংগঠনগুলি। আয়োজকদের লক্ষ্য, বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে আদিবাসীদের অধিকার ও দাবিগুলি রাজ্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরা।

Scroll to Top