Sendra // Santali Culture Sendra // Sendra Do Ched Kana // সেঁন্দরা // সেঁন্দরা বাংলা অর্থ অনুসন্ধান বা খোঁজ
সেঁন্দরা বাংলা অর্থ অনুসন্ধান বা খোঁজ
✍️প্রলয় হাঁসদা
মূলত…কোন একটি জঙ্গলে বিগত বছরে যে সব প্রজাতির গাছ-পালা-লতা-গুল্ম-পশু-পাখী-সরীসৃপ-পতঙ্গ….ইত্যাদি এই বছরও পাওয়া যায় কি না সেসব বিষয়ে বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান অর্থাৎ আধূনিক পরিভাষায় যেটাকে “সার্ভে” বলা হয় সেটাই হয়ে থাকে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের “সেন্দরা”র মাধ্যমে। ঘন ও গহীন অরণ্যে প্রবেশ করলে আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র থাকত। এই “সার্ভে” থেকে উঠে আসা তথ্যের উপর নির্ভর করেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমাজপতিরা অর্থাৎ মাঝিরা (পারগানারা নয়) পরবর্তী একবছরের জন্য সংশ্লিষ্ট জঙ্গলটির প্রতি তাদের করণীয় কর্তব্য কি হবে…তা নির্ধারণ করতেন। একটি জঙ্গলকে আদর্শ জঙ্গল হিসাবে অর্থাৎ জীববৈচিত্র্য ভরপুরভাবে একটি জঙ্গলকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে জঙ্গলে সব রকম পশুর সমানুপাতিক বন্টন প্রয়োজন। কোন একটি প্রজাতির সংখ্যাধিক্য ঘটলে স্বাভাবতই জঙ্গলের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়। সংখ্যাধিক্যের কারণে খাদ্যের অভাব এবং সেই কারণে তখন সেটি নিকটবর্তী গ্রামে হানা দিবে। গ্রামবাসীদের কষ্টার্জিত ফসল ,গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি……ইত্যাদি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়। এবং অবশ্যম্ভাবী চলে আসে মানুষ ও বন্যজন্তুর মধ্যে সংঘাতের বিষয়টিও। জঙ্গলের মধ্যে প্রতিটি প্রজাতির সংখ্যাধিক্য নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে…বন্যজন্তু ও মানুষের অনিবার্য সংঘাতের বদলে সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি জঙ্গলকে আদর্শ জঙ্গল তথা জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের “সেন্দরা” একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে সেই আবহমানকাল থেকেই।
ভারতীয় বন ও বন্যপশুসমুহ প্রকৃত অর্থে বিপদের সম্মুখীন হয় 1853 সালে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ ও 1854 সালে PWD নামক দুটি সংস্থা তৈরী হলে। এই দুটি সংস্থার কাজের জন্য অর্থাৎ রেল লাইন বিছানোর জন্য স্লিপার, রেলের বগি তৈরীর জন্য, ল্যম্পের ও অন্যান্য খুঁটি তৈরীর জন্য, সরকারি আবাসন তৈরীর জন্য, বড় বড় লাট বেলাটের দামি দামি আসবাব তৈরীর জন্য, সরকারি দপ্তরগুলির জানালা-দরজা-সিঁড়ি নির্মান…ইত্যাদির জন্য ও ব্রিটেন ও ব্রিটেনের উপনিবেশ রাষ্ট্রে চালান দেওয়ার জন্য ভারতবর্ষ জুড়ে অরণ্য নিধনের কর্মযজ্ঞ আরম্ভ হল।
জঙ্গলের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল আদিবাসীরা যাতে এই অরণ্যনিধন কর্মযজ্ঞের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ট্যাঁ ফো না করতে পারে সেজন্য 1864 সালে তৈরী হল ইম্পেরিয়াল ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট….আজকের “বনদপ্তর”। কয়েক হাজার বছর ধরে নিজেদের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী “সেন্দরা”কে অবলম্বন করে ভারতীয় আদিবাসীরা ভারতীয় যে জঙ্গলগুলিকে আদর্শ জঙ্গলরূপে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিল ইম্পেরিয়াল ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে সামনে রেখে মাত্র প্রায়
80 বছররের মধ্যে সর্বনাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল ব্রিটিশরা। 1947 সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হলেও অরণ্যধ্বংসের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মানসিকতা ন্যূনতম বদল হয়নি 2021 দাঁড়িয়েও এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। পুরুলিয়া জেলার ঠুড়্গা প্রকল্প বিরোধী আন্দোলন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে JICA কে সন্তুষ্ট করার জন্য বনদপ্তরের ভূমিকা কি ছিল!
চৈত্র-বৈশাখ আসলেই অনেককে “শিকারোৎসব” ও ওয়াইল্ড লাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্ট-1972″ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তারা বলতে ভুলে যান বা ইচ্ছাকৃতভাবেই যেটা বলেন না সেটা হল যে, উচ্চবিত্তের মানুষজন তথা জমিদারেরা “শিকার” করতেন এবং তাদের এক একটি শিকার পর্বের আয়োজন সত্যিই একটা উৎসবের চেহারা নিত। সেখান থেকেই “শিকারোৎসব” নামক শব্দবন্ধের উৎপত্তি। ইম্পেরিয়াল ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে সামনে বন উজাড় করে দেওয়া তো ছিলই …তার সাথে ছিল রাজা-উজির-আমির-ওমরাহ-জমিদার-সামন্ত এদের ছিল নির্বিচারে বন্যপশু শিকার বিনোদন…..শিকারোৎসব। যার অনিবার্য পরিনতি “ওয়াইল্ড লাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্ট-1972″।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়…আজকের সো-কল্ড পশুপ্রেমীরা এই “শিকারোৎসব”-র সাথে আদিবাসী “সেন্দরা”কে গুলিয়ে ফেলছেন….মিলিয়ে দিচ্ছেন। “সেন্দরা” আদিবাসীদের “পশুশিকার” করার একটা প্রথা এবং সেন্দরার উদ্দেশ্যে জমায়েতকে “শিকারোৎসব” বলে অবিহিত করছেন। এটা পুরোপুরি অনভিপ্রেত। হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও বটে। সেন্দরাতে যে পশুশিকার হয় না তা নয়। আমরা যদি ভাল করে খেয়াল করি ..দেখব যে, সেন্দরার বিরুদ্ধে ডকুমেন্টারি বানাচ্ছেন বা ছবি তুলছেন তাদের তোলা ছবির….প্রায় সব কটি ছবি বুনোশুয়োর ছবি। প্রসঙ্গক্রমে আমাদের জানতে হবে যে, একটি শুয়োর এককালীন ১২-১৫ টি বাচ্চা প্রশব করে। আমি আগে উল্লেখ করেছি…..প্রতিটি প্রজাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে, বন ও বন্যপশুর মধ্যে সংঘাতের বদলে সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি জঙ্গলকে জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ জঙ্গল হিসাবে ধরে রাখতে হলে সময়ে সময়ে “কালিং”-র দরকার পড়ে। সেন্দরাতে …অনুসন্ধান বা খোঁজের পাশাপাশি জঙ্গলের স্বার্থে সংখ্যাধিক্য নিয়ন্ত্রনের পর্বটিও আসে। অনেকেই বলবেন…ভারতবর্ষে কালিং প্রথা নেই…আইনসিদ্ধ নয়। ঠিকই। তাদেরকে আমার প্রশ্ন….এতসবের পরও কি করে তবে আদিবাসীরা হাজার হাজার বছর ধরে বনকে ও বন্যপ্রানীদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিল?অতীতের ইম্পেরিয়াল ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট…আজকের বনদপ্তর থাকার পরও কেন মাত্র 150 বছরের মধ্যে বনের আয়তন ও বন্যপ্রানীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হঠাৎ কমতির দিকে? আদিবাসীদের “সেন্দরা” বন্যপ্রানী কমে যাওয়ার বা লুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণ….এমন কোন পাকাপোক্ত প্রমান আছে কি? যে পশুপ্রেমীরা, বনদপ্তরের আধিকারিকরা আদিবাসীদের “সেন্দরা” নিয়ে এত তৎপর তারা অরণ্য আইন-1980 বা “বনাধিকার আইন-2006” নিয়ে একেবারে চুপচাপ কেন?
জানিনা কতটা সত্যি। তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সো-কল্ড পশুপ্রেমীদের মুখেই শুনেছি যে, অরণ্যে বন্যপ্রান না থাকলে না কি সেটা উন্নয়নের নামে কোন সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়াটাই দস্তুর। আদিবাসীরা অরণ্যকে মাতৃরূপে বন্দনা করে। যে কোন মূল্যে তাকে বাঁচিবেই। অরণ্যকে বাঁচানোর জন্য অরণ্যে বন্যপ্রানী আছে যে কোন মূল্যে সেটা প্রমান করবেই।
সুতরাং… আমার ব্যক্তিগত অভিমত… জঙ্গলে বন্যপ্রানীর সংখ্যা কম বা জীববৈচিত্র্যের মান ততটা উল্লেখযোগ্য নয় এই অজুহাতে অরণ্য বিক্রি করে দেওয়ার সরকারি প্রথা থেকে সরকার বা সরকারের অধীনস্থ দপ্তরগুলি সরে আসতে না পারলে আদিবাসীরাও হয়তো অ-আদিবাসীদের দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া তথাকথিত “শিকারোৎসব” থেকে সরে আসবে না।
বনদপ্তর বা পরিবেশ মন্ত্রক বা তথাকথিত পশুপ্রেমীরা নিজেদের ইগো ভুলে নিজেদের মতামত বা সিদ্ধান্তকে আদিবাসীদের উপর না চাপিয়ে বন ও বন্যপ্রানী রক্ষার পাঠ আদিবাসীদের থেকেও নেওয়া যায়…বন ও বন্যপ্রানীকে বাঁচাতে আদিবাসীদের অধিকারকেও মান্যতা দেওয়া প্রয়োজন…নিদেনপক্ষে তাদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরন করা প্রয়োজন…এমন উদারতা দেখাতে পারবে কি?
এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো বন ও বন্যপ্রানীর জন্য কল্যানকর বার্তা বয়ে আনতে পারে।
Sendra // Santali Culture Sendra // Sendra Do Ched Kana // সেঁন্দরা
সেঁন্দরা
- All
- Anorhe
- Biography
- Blog
- Football
- Kudum
- News
- Santali Quiz
- Santali SAQ
- Santali SET/NET Question Answer
- Santali Story
- Sports
- Uncategorized


























